রাত ২:৪৫ - ২৮শে মে, ২০২০ ইং

লোহাগাড়ায় পাহাড় কেটে তৈরি হচ্ছে ‘মৎস্য খামার’

লোহাগাড়ায় পাহাড় কেটে তৈরি হচ্ছে ‘মৎস্য খামার’

লোহাগাড়ার চরম্বা ইউনিয়নের বিবির টিলা এলাকার বিবিএম ব্রিক ফিল্ডের বিরুদ্ধে পাহাড় কাটার অভিযোগ উঠেছে। বেশ কয়েকদিন ধরে পাহাড়ের মাটি কেটে ব্রিকফিল্ডে ইট তৈরির জন্য জমা করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

প্রায় মাসখানেক ধরেই কাটা হচ্ছে পাহাড়। পাহাড় কাটার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের দাবি লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছ থেকে ‘অনুমতি’ নিয়েই পাহাড়ের মাটি কাটা হচ্ছে।

তাদের দাবি গত তিনমাস আগে ‘খতিয়ানভুক্ত’ ওই পাহাড়ি জায়গায় মৎস্য খামার করার জন্য ‘অনুমতি’ নেওয়া হয়েছে ।

তবে পরিবেশ অধিদফতরের কর্মকর্তারা বলছেন- উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পাহাড় কাটা বা মৎস্য খামার করার জন্য কোনো ছাড়পত্র দিতে পারেন না।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মো. বেলাল নামে এক ব্যক্তির ‘মালিকানাধীন’ পাহাড়ি জমির মাটি কিনে নেন বিবিএম ব্রিক ফিল্ডের মালিক মো. শাহ আলম। তিনি মাসখানেক ধরে স্কেভেটর দিয়ে ওই পাহাড়ি জমির মাটি কেটে আসছেন। পাহাড়ি অংশ কেটে এখন সমতলের নিচের অংশের মাটি কাটছেন।

জানতে চাইলে মাটি কাটার বিষয়টি  স্বীকার করেন বিবিএম ব্রিক ফিল্ডের মালিক মো. শাহ আলম।

তবে শাহ আলম দাবি করেন- তিনি মো. বেলালের কাছ থেকে মাটি কিনেছেন শুধু। ওখান থেকে ট্রাকে করে তার ব্রিক ফিল্ডে মাটি আনছেন। তিনি মাটি কাটার সঙ্গে জড়িত নন।

শাহ আলম বলেন, ‘মো. বেলাল গত তিন মাস আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু আসলামের কাছ থেকে ওই জায়গায় মৎস্য খামার করার জন্য অনুমতি নিয়েছেন। পরে তিনি আমাকে মাটি বিক্রি করেছেন।’

পাহাড় কাটা বা মৎস্য খামার করার অনুমতির বিষয়ে জানতে চাইলে লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তৌছিফ আহমেদ বলেন, ‘এরকম কোনো বিষয় আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে বলতে হবে।’

পরিবেশ অধিদফতর চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. ফেরদৌস আনোয়ার বলেন, ‘মৎস্য খামার করার জন্য অনুমতি দিতে পারেন না উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখবো।’

তিনি বলেন, ‘লোহাগাড়ার ইটভাটাগুলোর বিরুদ্ধে পাহাড়ি মাটি ও ফসলী জমির টপ সয়েল কাটার অভিযোগ রয়েছে। তাদের শুনানিতে উপস্থিত হওয়ার জন্য নোটিশও দেওয়া হয়েছে।’

 



-->