রাত ৩:৩৫ - ২১শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ইং

আলোচনায় কায়ছার চৌধুরী রুবেল!

print

বিশেষ প্রতিনিধিঃ

কর্মী বান্ধব ও দুর্দিনে কর্মীদের পাশে থেকে সাহস যোগিয়েছিলেন এমন একজন নেতাকেই কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের কান্ডারী বানাতে চাই তৃণমূল নেতা-কর্মীরা। তাদের একটাই দাবি যোগ্য নেতৃত্বই যেন তারা পায়। সেজন্য তারা কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের বর্তমান আপ্যায়ণ বিষয়ক সম্পাদক কায়ছার চৌধুরী রুবেলকে চায়।

শাখা ছাত্রলীগ কর্মী মাহফুজ মিনার বলেন, কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগ বাংলাদেশ ছাত্রলীগের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট। এ ইউনিটের নেতা-কর্মীদের রয়েছে অনেক ত্যাগ। তাদের ত্যাগের মূল্য দিবে এখানে একজন কর্মী বান্ধব নেতার প্রয়োজন। আমরা মনে করি কায়ছার চৌধুরী রুবেল ভাইয়ের কোন বিকল্প নেই।

সৈয়দ সাদিক রিজভী নামের আরেক ছাত্রলীগ নেতা বলেন, ছাত্রলীগের জেলা-উপজেলা পর্যায়ে প্রায় সবকটি কর্মসূচিতে অংশ নেন কায়ছার ভাই। সব সময় তাকেই আমরা পাশে পায়। তার মতো একজনকেই আমরা জেলা ছাত্রলীগের কান্ডারী বানাতে চাই।

জানা যায়, ২০০৫ সালে স্কুলছাত্র থাকাকালীন রত্নাপালং ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সদস্য হিসেবে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যুক্ত হন রুবেল।২০০৮ সালে উখিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক মনোনীত হন। ২০১২ সালে কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের আলী আহমদ- আবু তাহের আযাদ কমিটির সহ সম্পাদক মনোনীত হন। উখিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সভাপতি পদে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমান কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের আপ্যায়ণ বিষয়ক সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করছেন। রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের পাশাপাশি শিক্ষাগত যোগ্যতার দিক দিয়েও অন্যপ্রার্থীদের চেয়ে এগিয়ে আছেন কাইছার চৌধুরী রুবেল। রত্নাপালং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাথমিক শিক্ষাজীবন শেষ করে পালং উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক পাস করেন কাইছার চৌধুরী রুবেল। পরবর্তীতে উচ্চশিক্ষার জন্য ভর্তি হন কক্সবাজার সিটি কলেজে। কক্সবাজার সিটি কলেজ থেকেই উচ্চমাধ্যমিক, স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি শেষ করেন। বর্তমানে কক্সবাজার আইন কলেজে এলএলবি পাস কোর্সে অধ্যয়নরত আছে। রুবেল অনুসারী নেতা-কর্মীরা মনে করেন- ঐতিহ্যবাহী ছাত্রসংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নেতৃত্ব দিতে ত্যাগ মেধা ও প্রজ্ঞা পাশাপাশি ধারাবাহিক রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ও ক্লিন ইমেজ দরকার। এক্ষেত্রে রুবেলকেই এগিয়ে রাখছেন তারা।

এদিকে, দীর্ঘ পাঁচ বছর পর আগামী ২০ সেপ্টেম্বর কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এ তারিখ ঘোষণার পর থেকে পদ প্রত্যাশীরা তাদের নিজেদের নানা মুখী কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত করে আলোচনায় আসতে সচেষ্ট। সম্মেলনে সভাপতি-সম্পাদক পদে দৌড়ে আছেন প্রায় ডজন খানেক নেতা।

সভাপতি ও সম্পাদক পদপ্রত্যাশী হিসেবে যারা এগিয়ে রয়েছেন – বর্তমান কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মারুফ ইবনে হোসেন, ইব্রাহীম আজাদ বাবু, নারিমা জাহান, বোরহান উদ্দিন খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম সাদ্দাম হোসেন, শাখাওয়াত হোসেন, নাজমুল ইসলাম শাকিল, ক্রীড়া সম্পাদক শাখাওয়াত হোসেন তুর্য্য, প্রচার সম্পাদক আলিফুজ্জামান শুভ, আপ্যায়ন বিষয়ক সম্পাদক কাইছার চৌধুরী রুবেল, দপ্তর সম্পাদক শাহনিয়াজ, সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ সদস্য সরওয়ার আজম, শিক্ষা ও পাঠচক্র বিষয়ক উপ সম্পাদক মারুফ আদনান, সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মুন্না চৌধুরী। এর মধ্যে আলোচনায় এসেছে কাইছার চৌধুরী রুবেলের নাম। আসন্ন সম্মেলনে সভাপতি পদ প্রত্যাশী এ ছাত্রনেতা বর্তমান জেলা কমিটির আপ্যায়ন বিষয়ক সম্পাদক ও উখিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি। রাজনৈতিক অঙ্গনে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত হলেও তাঁর রয়েছে ব্যক্তি ও পারিবারিক ইমেজ। আপাদমস্তক আওয়ামী পরিবারের সন্তান ও দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ার তার সভাপতি পদে আসার জন্য সহায়ক হবে এমনটাই মনে করেন জেলা ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা।

কাইছার চৌধুরী রুবেল বলেন- ছোট বেলা থেকে মুজিব আদর্শের প্রতি অবিচল থেকে শিক্ষা-শান্তি-প্রগতির পতাকাবাহী সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের রাজনীতিতে আছি। তৃণমূলের রাজনীতিকে সুসংগঠিত করতে আসন্ন সম্মেলনে সভাপতি প্রার্থী হয়েছি। তৃনমূলের চাওয়া ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের মুল্যায়নে যোগ্যতম হিসেবে বিবেচিত হলে জেলা ছাত্রলীগের দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত আছি।

জেলা ছাত্রলীগ সূত্রে জানা গেছে- ২০১৪ সালের ১৩ ডিসেম্বর কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের সর্বশেষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ২০১৫ সালের ১০ জানুয়ারি ইশতিয়াক আহমেদ জয়কে সভাপতি এবং ইমরুল হাসান রাশেদকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে ইমরুল রাশেদ ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ায় সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেন। পরে মোর্শেদ হোসেন তানিমকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। ২০১৭ সালের ১০ জানুয়ারি গঠনতন্ত্র মোতাবেক বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে। গত ৩০ জুলাই ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির এক সভায় আগামী ২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বর্তমান জেলা কমিটির সম্মেলন ও কাউন্সিল অনুষ্ঠানের জন্য কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়।

print