বিকাল ৫:২৫ - ৭ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং

রোহিঙ্গা প্রীতি, রোহিঙ্গা ভীতি

print
অসহায় রোহিঙ্গা মুসলিমদের অামরা অাশ্রয় দিয়েছি। তাদের জন্য অামরা একটু কষ্ট করেছি, কষ্ট করছি। এটা শুধু তাদের প্রতি অামাদের করুণা নয়, দায়িত্বও বটে। তাছাড়া মুসলমান হিসেবে তারা স্বজাতির কাছ থেকে এতটুকু সহযোগিতা অাশা করতেই পারেন।
 
মহান মালিক অামাদেরকে একটি স্বাধীন ভূখন্ডে পাঠিয়েছেন। অন্য জাতির গোলাম করে অামাদেরকে পাঠাননি। এটা কেবল তার করুণা। এজন্য অামাদের শোকর করা দরকার। তিনি চাইলে রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতি অামাদের ভাগ্যে জুটাতে পারেন না?
 
অামরা রোহিঙ্গাদের প্রতি ইহসান করেছি। এরা বিপদে পড়েছে৷ অামরা তাদের অাশ্রয় দিয়েছি। যতদিন অামাদের ঘরে অাছে ততদিন তারা অামাদের মেহমান। এটা অামাদের ইনসানিয়াতের অংশও বটে। তবে খোঁটা দেয়া কখনো ইহসান, ইনসানিয়াতের অংশ হতে পারে না।
 
একটি বিষয় বিশেষভাবে খেয়াল হলো, কয়েকদিন ধরে দেশের বেশ কিছু পত্রিকা রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে ফলাও করে সংবাদ প্রচার করছে। বলা চলে তারা অনেকটা সিরিজ নিউজ করছে এবং তা অনেকটা ঢালাওভাবে। অার অামরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তা শেয়ারের উপর শেয়ার করছি৷ অনেকটা না বুঝেই ঢালাওভাবে বিদ্বেষমূলক প্রচার করছি। রোহিঙ্গাদের উপর বার্মিজ বাহিনীর বর্বরতার সময় যে মানুষগুলো দ্বীন চলে যাচ্ছে, মুসলমানরা শেষ হয়ে যাচ্ছে বলে হায় হায় করেছিল, তারাই এখন সেসব মিডিয়ার কল্যাণে দেশ খেয়ে দিচ্ছে, রাষ্ট্র চলে যাচ্ছে বলে অাপসোস করছেন।
 
রোহিঙ্গারা বর্বর,তারা খুনী, মাদক ব্যবসায়ী। তারা অাশ্রয় শিবিরে বসে বসে অারাম অায়েশ করছে। তারা বাঙ্গালীদের চেয়ে ভালোতে অাছেন। অারো কত কি……. অাচ্ছা, অাপনাকে যদি একটি ঘরে বন্দী করে পৃথিবীর সব খাবার দেয়া হয় তাতে খুশি থাকবেন, নাকি মুক্ত পৃথিবীর হাওয়া খাচ্ছেন সেটার জন্য মনিবের কাছে শোকরিয়া জানাবেন।
 
রোহিঙ্গাদের মূর্খ, বর্বর, অসভ্য বলে অামরা তাচ্ছিল্য করছি। অার এটি তো তাদের দোষ নয়। সেখানকার জালিম সরকার পরিকল্পিতভাবে তাদের শিক্ষার অালো থেকে বঞ্চিত করেছে। সভ্যতার ছোঁয়া পেতে দেয়নি। তো তারা কেমনে বিজ্ঞ, সভ্য হবেন? অার গুটিকয়েক মানুষের কারণে তো অামরা পুরো জাতিটাকেই বর্বর বলতে পারিনা।
 
অাচ্ছা, অামরা তে সভ্য সমাজে বসবাস করছি৷ তো এখানে কেন ধর্ষণের সেঞ্চুরি হয়, মায়ের পেটের সন্তানও নিরাপদ থাকেনা, যেখানে সেখানে লাশ পড়ে থাকে, দিন দুপুরে প্রাণবন্ত মানুষগুলো গুম হয়? অসহায় ভিক্ষুকের থালাটিও কেন অামরা কেড়ে নিই?
 
অামার বলতে কোন দ্বিধা নেই, এদেশের মিডিয়াগুলোর একটি বড় অংশ বিশেষ একটি গোষ্ঠীর এজেন্ডা বাস্তবায়নে তৎপর। তারা চাইনা এদেশের মানুষের ইসলামী ভ্রাতৃত্ববোধ তৈরি হোক। মুসলমানরা একে অপরের সহযোগিতায় এগিয়ে অাসুক। প্রতিবেশী কোন মুসলমান সম্প্রদায় থাকুক। কারণ তারা ভালো করেই জানে, এই দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বের অন্যতম রক্ষাকবচ হলো ইসলাম।
 
মিডিয়াগুলো গত ১দিন অাগে রোহিঙ্গারা যে সমাবেশ করেছে, তা নিয়ে বিষোদগার করছেন।ওই সমাবেশে রোহিঙ্গারা বলেছিল, নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে তারা মিয়ানমারে ফিরে যাবে না। তারা তাদের সাথে সেখানে ঘটে যাওয়া তিক্ত অভিজ্ঞতার কারণেই হয়তো তা বলেছে। অার দেখেন, মিডিয়াগুলো এই কথাকে এমনভাবে তুলে ধরেছেন যাতে মনে হচ্ছে রোহিঙ্গারা বুঝি বাংলাদেশ দখল করে নিলো। এদিকে অামরা দেশ চলে গেল বলে হায় হায় করছি অার এসব অসহায় মানুষগুলোকে চরম অকৃতজ্ঞ বলে যাচ্ছেতাই গালিগালাজ করছি। অথচ এই সমাবেশে তারা আমাদের প্রতি বারবার কৃতজ্ঞতার কথা জানিয়েছে।অাসল কথা হলো, এই মিডিয়াগুলো প্রকৃতপক্ষে রোহিঙ্গা পুনর্বাসন চায় না, তারা একটি মুসলিম সম্প্রদায়ের পৃথিবী থেকে মূলোৎপাটন চায়।
 
অামি রোহিঙ্গাদের এই দেশে রাখার পক্ষে নয়। অার সেটি এক মিনিটের জন্যও নয়। তবে যাওয়ার একটি পরিবেশ তৈরি করে তারা ফিরে যাক। তারা তাদের মাতৃভূমি, ভিটেমাটি ফিরে পাক। মানুষের মত বেঁচে থাকুক। অার যতক্ষণ অামাদের অাশ্রয়ে অাছে ততক্ষণ যেন তাদের তাচ্ছিল্য না করি, খোঁটা না দেয়। হয়তো মওলা বিভিন্ন জাতির মতো অামাদেরকেও পরীক্ষা করছেন।
জালাল রুমি
সাংবাদিক
print