রাত ৩:১৬ - ১৭ই অক্টোবর, ২০১৯ ইং

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরঃ যা পেলাম, যা দিলাম

print

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চারদিনের সফর শেষে রোববার রাতে ভারত থেকে দেশে ফিরেছেন৷ এই সফরে সাতটি চুক্তি ও তিনটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে দুই দেশের মধ্যে৷

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর এই ঐতিহাসিক সফরে বন্ধু রাষ্ট্র ভারত থেকে বাংলাদেশের প্রাপ্তির খাতা শূন্য বলে দাবি করছেন বিশ্লেষকরা।  বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলো ভারতের সাথে সম্পাদিত এসব চুক্তির বিরোধীতা করছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগলোতেও এই নিয়ে চলছে চুলছেড়া বিশ্লেষণ। সর্বশেষ ভারতের সাথে করা প্রধানমন্ত্রীর এসব চুক্তির বিরদ্ধে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে রবিবার দিবাগত রাতে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ( বুয়েট)  এক মেধাবী শিক্ষার্থীকে  পিটিয়ে হত্যা করে সরকার দলীয় সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

 জানা যায়, দুই প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের পর বাংলাদেশ-ভারত  ৭ টি  চুক্তি ও সমঝোতা  স্বারকে স্বাক্ষর করেছে৷ এগুলোর মধ্যে আছে, ফেনী নদী থেকে এক দশমিক ৮২ কিউসেক পানি প্রত্যাহার করতে পারবে ভারত৷ ওই পানি তারা ত্রিপুরার সাবরুম শহরে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ প্রকল্পে ব্যবহার করবে৷ উপকূলে সার্বক্ষণিক মনিটরিং ব্যবস্থার (কোস্টাল সারভেইল্যান্স সিস্টেম-সিএসএস) বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক সই করেছে দুই দেশ৷ চট্টগ্রাম ও মংলা সমুদ্র বন্দর দিয়ে ভারতীয় পণ্য পরিবহনের বিষয়ে একটি স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউরও (এসওপি) স্বাক্ষর হয়েছে৷ আর চুক্তি হয়েছে বাংলাদেশকে দেওয়া ভারতের ঋণের প্রকল্প বাস্তবায়নে৷ সহযোগিতা বিনিময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও হায়দরাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে৷ এছাড়া সাংস্কৃতিক কার্যক্রম বিনিময় নবায়ন এবং যুব উন্নয়নে সহযোগিতা নিয়ে দুটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে৷

 

বিশ্লেষকরা  বলছেন, এইসব চুক্তিতে তিস্তার পানি বন্টন নিয়ে সুস্পষ্ট কোন প্রতিশ্রুতি পাওয়া যায়নি৷ উল্টো ফেনী নদীর পানি তুলবে ভারত৷ সেটা যতটুকুই হোক৷ এগুলো দেশের মানুষ ভালোভাবে নেয় না৷ ফলে নানামুখী আলোচনা হচ্ছে৷ সেটাই স্বাভাবিক৷

 সমালোচকরা  বলছেন, যেগুলো আমাদের জীবন মরণ সমস্যা , সেগুলো নিয়ে বন্ধু রাষ্ট্রটির  কোন মাথা ব্যাথা নেই। তিস্তা নিয়ে কোনো অগ্রগতি নেই৷ রোহিঙ্গা ইস্যুতে  তারা আমাদের পাশে নেই। এনআরসি বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদী আশ্বস্ত করলেও তাঁর মন্ত্রীরা প্রতিনিয়তই হুমকি দিচ্ছেন৷ এগুলোর সুরাহা হওয়া দরকার৷ কিন্ত এর কোনটায় হয়নি। উল্টো তাদেরকে ফেনী নদীর পানি দিলাম, চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর ব্যবহার করতে দিলাম, ভারতীয় নৌবাহিনীকে  বাংলাদেশের উপকুলীয় এলাকার সার্বক্ষণিক মনিটরিং করার সুযোগ দিলাম।

 

ভারতের সাথে সম্পাদিত চুক্তির বিষয়ে  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘‘আমরা আসলে দেখছি, ভারত বাংলাদেশের জনগনের সঙ্গে নয়, সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক রাখার ব্যাপারে আগ্রহী৷ কারণ তারা বাংলাদেশের জনগনের কোন সুবিধার কথা চিন্তা করছে না।”

এদিকে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ রোববার সাংবাদিক সম্মেলনে দাবি করেছেন, ভারতের সঙ্গে দেশবিরোধী চুক্তিকে জনগণের কাছ থেকে আড়াল করতে যুবলীগ নেতা ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটককে গ্রেফতারের নাটক সাজানো হয়েছে৷ রিজভী অভিযোগ করে বলেন, ‘‘গত ১২ বছরে ভারতকে এই সরকার যা দিয়েছে তারপর বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের কিছু কি অবশিষ্ট থাকলো? দেশ বিক্রি করে হলেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ক্ষমতা প্রয়োজন৷’’ বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘‘সব দেশের প্রধানমন্ত্রীরা বিদেশ সফরে কিছু না কিছু আনতে যান৷ আর আমাদের প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরে যান সবকিছু উজাড় করে দিয়ে আসতে৷’’

 

উল্লেখ্য, ১৯৮৭ সালের পর থেকে তিস্তার পানি নিয়ে ভারতের সাথে কোনো চুক্তি নেই বাংলাদেশের৷ একতরফাভাবে তিস্তার পানি প্রত্যাহার করে নিচ্ছে দেশটি৷ ফলে বাংলাদেশের তিস্তা অববাহিকায় পানিসংকট চলছে৷ ২০১১ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ভারতের তখনকার প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং-এর ঢাকা সফরে তিস্তা পানি  নিয়ে চুক্তির কথা ছিলো৷এসময় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির ঢাকায় আসার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত আসেননি, তিস্তা চুক্তিও তাই হয়নি৷ এরপর ২০১৫ সালে ঢাকা সফরকালে তিস্তার পানি দেয়া যাবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন মমতা৷

 

print